সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২০
দেশজুড়ে ডেস্ক
২৫ জুন ২০২০
৫:২৩ অপরাহ্ণ
এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যান গ্রুপের সংঘর্ষ

২৫ জুন ২০২০ ৫:২৩ অপরাহ্ণ

আল কাদরি কিবরিয়া সবুজ, (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:- বিধবা ও বয়স্কভাতাসহ সুবিধাবঞ্চিত অসহায়দের কার্ড প্রদানসহ সরকারি সহায়তার নামে গরীব-দুঃখীদের নিকট থেকে এমপি দুর্নীতির মাধ্যমে মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা গ্রহন করেছেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সরাসরি অভিযোগ করায় রামদা ছাড়াও ধারালো অস্ত্রশস্ত্র সজ্জিত পরস্পর বিরোধী ধাওয়া পাল্টা ধাওয়াসহ তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।


বুধবার বিকেল ৫টা হতে এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত এঘটনায় উভয়পক্ষের অন্ততঃ ৮ জন আহত হয়েছেন।

অবশেষে পুলিশী হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

পূনরায় সংঘর্ষ এড়াতে পৌরশহরের চৌমাথা ও রাব্বি মোড়সহ স্পর্শকাতর পৃথক কয়েকটি পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নির্ভরযোগ্য বিভিন্ন সূত্র জানায়, পলাশবাড়ী পৌরশহর ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মাঝে বয়স্ক ও বিধবা ভাতাসহ অন্যান্য কর্মসূচীর আওতায় সরকার প্রদত্ত সুবিধা প্রদানের বিপরীতে কৃষকলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাধারন সম্পাদক এবং গাইবান্ধা-৩ নির্বাচনী এলাকার সাংসদ এ্যাড. উম্মে কুলসুম স্মৃতি মোটা অংকের অর্থ গ্রহন করেছেন বলে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব একেএম মোকছেদ চৌধুরি বিদ্যুৎ সরাসরি অভিযোগ করে বসেন।

তিনি বলেন এমপি গোপন আঁতাত করে উপজেলার বরিশাল ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রওশন আরা বেগম ঝরনা (৫৫) মাধ্যমে এসব টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

কাকতালীয় ২৪ জুন বুধবার দুপুরে মাননীয় সাংসদের স্বামীর সাথে উপজেলা চেয়ারম্যানের এবিষয়ে মোবাইলে উত্তেজিত কথাবার্তা বিনিময় হয়। বিষয়টি সংসদ সদস্য জানতে পেয়ে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে অভিযুক্ত ঝরনা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থানা অফিসার ইনচার্জ মাসুদুর রহমানকে এবিষয়ে করনীয় একটি নির্দেশনা প্রদান করেন।

পুলিশ সত্যতা যাচাই-বাছাইয়ে ঝরনাকে তার বাড়ী হতে থানায় নিয়ে আসেন। এদিকে সৃষ্ট ঘটনায় এমপি বনাম চেয়ারম্যান সমর্থক দলীয় নেতাকর্মিদের মাঝে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দলীয় নেতাকর্মিরা দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়েন। বিষয়টি নিষ্পত্তিকল্পে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌর প্রশাসক আবু বকর প্রধানের হস্তক্ষেপে দলীয় নেতৃবৃন্দদের নিয়ে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে তাৎক্ষণিক একটি জরুরি বৈঠক আহবান করা হয়।

এদিকে ওই নেত্রী টাকা নিয়ে কার্ড দিতে না পারায় জনৈক্য মুক্তিযোদ্ধা মোবাইল ফোনে বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য এ্যাড. উম্মে কুলসুম স্মৃতি এমপিকে অবগত করে।

অনিয়মের অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরে এমপি জনৈক্য মহিলা নেত্রীকে থানায় আটক করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পলাশবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদার রহমান মাসুদকে নির্দেশ প্রদান করে।

সংসদ সদস্যের নির্দেশে পুলিশ ওই নেত্রীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

এদিকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব একেএম মোকছেদ চৌধুরী বিদ্যুৎ ওই নারী নেত্রীর পক্ষ অবলম্বন করে মাননীয় সংসদ সদস্যকে মোবাইলে অশ্লীলতার গালমন্দ করে।

দ্রুত এই খবর পলাশবাড়ীতে ছড়িয়ে পড়লে এমপি সমর্থিত নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হলে বিকেল ৩টায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কক্ষে আওয়ামিলীগ সভাপতি আবু বক্কর প্রধান নেতৃত্বে এক সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক চলাকালে উপজেলা চেয়ারম্যানের ডাকে জামায়াত বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে মিলিত হয়।

এসময় সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া দেয়। সাময়িক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হলেও চলমান বৈঠকে নারী নেত্রী রওশন আরার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়।

পাশাপাশি এমপির সাথে এমন ঘটনার জন্য উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব একেএম মোকছেদ চৌধুরী বিদ্যুৎ ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

সমঝোতা বৈঠক শেষে বিকাল ৫টার দিকে উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতির নেতৃত্বে সবাই এক সাথে উপজেলা পরিষদ ত্যাগ করে।

এদিকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব একেএম মোকছেদ চৌধুরী বিদুৎ তার বাসায় পৌছার ৫ মিনিট পরেই বিএনপি জামায়াতে কতিপয় নেতাকর্মী ও সমর্থক অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হইয়া অতর্কিত ভাবে এমপি সমর্থিত আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপর হামলা চালায়।

এ সময় উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আবু বক্কর প্রধান সংঘবদ্ধ বিএনপি জামায়াত আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের উপর অতর্কিত হামলা চালানো প্রতিরোধ কল্পে থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদার রহমান মাসুদকে অনুরোধ জানান।

পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার আগেই বিএনপি-জামায়াত ও উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীর হামলায় সাংবাদিকসহ ৭ জন আহত হয়। আহতরা হলেন ছাত্রলীগ নেতা নাজিবুর রহমান নয়ন, মিনু শেখ, নাইজুল, লিটন, আব্দুল মান্নান, লেবার আফসার ।

এসময় তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের লোকজনের প্রতিহিংসার শিকার হয় পলাশবাড়ী প্রেসক্লাবের যুগ্ম আহবায়ক সাংবাদিক সিরাজুল রতন।

সন্ত্রাসীরা তার ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়।এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

আহতদের মধ্যে সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম রতন, ছাত্রলীগ নেতা নাজিবুর রহমান নয়নসহ বেশ কয়েকজনকে চিকিৎসার জন্য পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য জমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার পর থেকে পলাশবাড়ী সদরের থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

শহরের বিভিন্নস্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

সম্পর্কিত খবর