রবিবার, নভেম্বর ১, ২০২০
লেখালেখি ডেস্ক
৪ অক্টোবর ২০২০
৮:৫০ অপরাহ্ণ
জয়পুরহাটের কানাইপুকুর গ্রামে আশ্রয় নিয়েছে দূর্লভ শামুকখোল
জয়পুরহাটের কানাইপুকুর গ্রামে আশ্রয় নিয়েছে দূর্লভ শামুকখোল

৪ অক্টোবর ২০২০ ৮:৫০ অপরাহ্ণ

আখতারুজ্জামান তালুকদার, জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ

জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল উপজেলার কানাইপুকুর গ্রামে আশ্রয় নিয়েছে দূর্লভ জাতের আবাসিক পাখি শামুকখোল।     

পাখি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। আজ তা অনেকটা বিলুপ্তির পথে। এখন হতে প্রায় ২২-২৩ বছর পূর্বে গ্রামীন অঞ্চলের গাছে গাছে দেখা যেত হরেক রকমের পাখি। ঝাঁকে ঝাঁকে উড়াল দিত আকাশে। খাদ্যের সন্ধ্যানে বেড়িয়ে পরত মাঠে। দিন শেষে আবার ফিরে আসত নিজ নীড়ে। 

কিচির মিচির শব্দে ভরে যেত পাখিদের বসবাসের এলাকা। হারিয়ে গেছে সেই ভাললাগার অনুভূতি। নেই সেই চিরচেনা দৃশ্য। গ্রামীণ এলাকার আবাদি জমিতে বসত কত জাতের পাখি। বর্তমানে ৪৭৭ প্রজাতির পাখি বাংলাদেশে নিয়মিত দেখা যায়। এই ৪৭৭ প্রজাতির মধ্যে ৩০১টি বাংলাদেশের 'আবাসিক' পাখি যেগুলো স্থায়ীভাবে ও ১৭৬টি  'পরিযায়ী' পাখি যেগুলো খণ্ডকালের জন্য নিয়মিতভাবে এ দেশে থাকে। নিয়মিত ১৭৬ প্রজাতির মধ্য ১৬০টি শীতে এবং ৬টি গ্রীষ্মে এবং বাকি ১০টি বসন্তে।তবে এত কিছুর মাঝে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকারী এসব পাখি ফিরতে শুরু করেছে গ্রামীণ এলাকায়। জেলার ক্ষেতলাল উপজেলার কানাইপুর গ্রামে আশ্রয় নিয়েছে দূর্লভ আবাসিক পাখি শামুকখোল। পাখির অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে এই গ্রামকে । এই অভয়াশ্রমের মালিক সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুস সোবহান (৭৫) বলেন, ২০০৭ সালের শুরুতে এখানে ৮-১০ প্রজাতির পাখি কলোনীর ৭ প্রকার গাছে আশ্রয় নেয়। সাড়ে ৪ বিঘা (১৫০ শতাংশ) জায়গা জুড়ে বসবাস করে এসব পাখি।  আগে ৮-১০ প্রজাতির পাখি দেখা গেলেও এখন শুধু শামুকখোল পাখিই বেশি দেখা যায়।

শামুকখোল বাংলাদেশের আবাসিক দুর্লভ পাখি। শামুক খেতে খুব ভালবাসে। শামুক পেলে ঠোঁট দিয়ে শামুকের খোল ভেঙ্গে সেটা ওপরে তুলে আকাশের দিকে মুখ করে গিলে ফেলে বলেই এর নাম শামুকখোল। তবে এরা শুধু শামুকই খায় না। মাছ, কাকড়া, ছোট ছোট প্রাণী, ব্যাঙ ইত্যাদিও খায়। দেখতে বকের মতো। গায়ের রঙ ধূসর সাদা। লেজ ও পাখার শেষভাগ কালো রঙের। বাংলাদেশের বড় পাখিদের মধ্য এটি একটি যা ৮১ সেন্টিমিটার লম্বা হয়। সাধারনত ঝাঁক বেঁধে চলে এবং প্রতি ঝাঁকে ৪০ থেকে ৬০টি পাখি থাকে। এদের দেহের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ঠোঁট। বড় আর ভারী যা ১৪ সেন্টিমিটার লম্বা হয়। জুলাই-আগস্ট মাসে ৩-৫ টি ডিম পাড়ে এইসব দূর্লভ পাখি।

স্বল্প সংখ্যক বসবাসকারী অন্য পাখি গুলোর মধ্য রয়েছে বাদুড়, কানি বক, সাদা বক, জাঠা বক, হরিতাল ও ঈগল পজাতির কুরা। প্রায় ১০ হাজারের মত শামুকখোল পাখি এই কলোনীর ৭-৮ টি গাছে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানান, পাখি কলোনীর সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। জাহাঙ্গীর আলম আরও জানান, আমরা পাখিগুলোকে রক্ষা করার জন্যই গড়ে তুলেছি পাখিকলোনী নামে একটি সংগঠন। পাখি দেখতে প্রায় সময়ই আশপাশের ও দূরদূরান্ত হতে লোকজন এই কলোনীতে আসে। রাজশাহী হতে বন বিভাগের কর্মকর্তারাও এখানে কয়েকবার এসেছেন। সংগঠনের সভাপতি মোহসিনা বেগম (৫৫) ও সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম (৪০)।

জানা যায়, ক্ষেতলাল উপজেলার কানাইপুকুর গ্রামকে ২০১৪ সালের শেষ দিকে পাখির অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করেন সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.টি.এম আব্দুল্লাহেল বাকী (২০১৪-১৫)। যিনি বর্তমানে নওগাঁ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। এই কর্মকর্তা পাখিগুলোকে সংরক্ষণ বিষয়ে বলেন, ব্যাপক প্রচারনা দরকার, পাশাপাশি এই কলোনীর চারিদিকে যদি সরকারীভাবে একটি প্রাচীর দেওয়া যেত তাহলে পাখি গুলোর বিচরণ অবাধ হত এবং কেউ সহজে শিকার করতে পারতনা। মানুষের চলাচল কম হলে পাখিরা আতংকমুক্তভাবে বসবাস করতে পারত।

ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ,এফ,এম আবু সুফিয়ান বলেন, যেহেতু এটি পাখিকলোনি। সেহেতু এটির সংরক্ষণ প্রয়োজন। স্থানীয় পাখি সংরক্ষণ কমিটি, বন বিভাগ ও প্রাণী সম্পদ বিভাগের সাথে আলোচনা করে একটি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।    

 

 


 

সম্পর্কিত খবর