মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২০
বিনোদন ডেস্ক
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
১:১৯ অপরাহ্ণ
‘এখন ধর তক্তা মার পেরেক স্টাইলে কাজ হচ্ছে’
‘এখন ধর তক্তা মার পেরেক স্টাইলে কাজ হচ্ছে’-thetopnews24.com

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১:১৯ অপরাহ্ণ

চঞ্চল চৌধুরী। তারকা অভিনেতা ও মডেল। সম্প্রতি 'তকদির' নামে একটি ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছেন তিনি। এ ছাড়া কিছুদিন আগে বিজ্ঞাপনেও কাজ করেছেন। ওয়েব সিরিজ ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হলো তার সঙ্গে-

'তকদির' ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছেন। কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

ওয়েব সিরিজ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা আছে। যেজন্য অপেক্ষা করছিলাম একটি দেশীয় পরিচ্ছন্ন কনটেন্টের জন্য। ওয়েব ছবির জন্য যা কিছু আয়োজন থাকা দরকার, সবই ছিল ছবিতে। নির্মাতা সৈয়দ আহমেদ শাওকীর কাজে অনেক যত্ন ছিল। এখানে আমাকে লাশবাহী গাড়ির ড্রাইভারের চরিত্রে অভিনয় করেছি। এর চেয়ে বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।

অভিনয়ে ফিরে কেমন লাগছে কাজের পরিবেশ?

সীমিতভাবে যতটুকু করা যায় ততটুকুই শুটিং করছি। কিন্তু শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খুব ভয় নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন। কেউ আবার উদাসীন। স্বতঃস্ম্ফূর্তভাবে কাজের আনন্দ নেই।

ভিউয়ের চাপে মানসম্পন্ন নাটক কি হারিয়ে যাচ্ছে?

আমার মনে হয়, ভালো কাজ কোথাও না কোথাও পৌঁছাবে। হয়তো অনেক মানুষ দেখবে না, কিন্তু যার দেখার, সে ঠিক খুঁজে দেখবে। এ সময় যারা নতুন কাজ করতে এসেছে তারা ভিউয়ের হিসাব রাখে। যখন কাজ করি কখনও মাথায় ভিউয়ের চিন্তা রাখি না। কাজটি ঠিকঠাকভাবে করে যাচ্ছি। সেই অভ্যাসেই দীর্ঘদিন কাজ করছি। সব সময় ভালো গল্প, ভালো নির্মাতা দেখেই কাজ করি। ভিউ হলে হবে, না হলে না হবে। যেসব নাটকের ভিউ বেশি, এর অধিকাংশ কনটেন্টই বাজে।

নাটকে অভিনয় কমিয়ে দিয়েছেন। এর কারণ কী?

করোনাকালে শুটিং করা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই নিয়মিত একক নাটক কিংবা ধারাবাহিকের কাজ করছি না। শুধু বিশেষ কোনো কাজ হলেই করছি। স্বল্প বাজেটে ভালো কাজ করা কঠিন। ব্যক্তিগতভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে কাজ করার নীতিতে বিশ্বাসী নই। এই পর্যায়ে এসে প্রতিদিন সব চ্যানেলে নিজেকে দেখানোর ইচ্ছা নেই। শুধু নিজের রুচির সঙ্গে যে কাজগুলো যায়, তাই করছি। ওয়েবের জন্য যদি ভালো কনটেন্ট পাই, সেগুলোর দিকেই গুরুত্ব দিচ্ছি।

টিভি নাটকের বর্তমান অবস্থাকে কীভাবে দেখেন?

টেলিভিশন মিডিয়ার অবস্থা খুবই খারাপ। এখন ধর তক্তা মার পেরেক স্টাইলে কাজ হচ্ছে। প্রতিদিন ২০-২৫টি সিকোয়েন্স করে শুটিং করতে হয়, এটা বিরক্তিকর। নির্মাতারা যখন থেকে নাটক চুক্তিতে নেওয়া শুরু করেছেন, তখন থেকেই মান নিম্নগামী হতে শুরু করেছে। নাটকের বাজেট যখন চ্যানেল থেকে দেওয়া হয়, তখন লাভ রাখে এজেন্সি। আরেকটি অংশ রেখে দেন প্রযোজক। এরপর নানা খাতে ব্যয় হয়। মূল বাজেট থেকে এত ভাগ হলে বাজেট কোথায় গিয়ে ঠেকে? ভালো গল্পের বাজেট নেই। নিজের পকেটের কথা বাদ দিয়ে সবাই যদি ইন্ডাস্ট্রির কথা চিন্তা করে, তাহলে টিভি নাটকের অবস্থার পরিবর্তন হবে।

সম্পর্কিত খবর