বুধবার, মে ১৯, ২০২১
শিক্ষা ডেস্ক
১২ এপ্রিল ২০২১
১০:১৭ পূর্বাহ্ণ
অসহায় মেধাবী শিক্ষার্থী লিমনকে মেডিক্যালে ভর্তির জন্য সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্ববান
অসহায় মেধাবী শিক্ষার্থী লিমনকে মেডিক্যালে ভর্তির জন্য সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্ববান

১২ এপ্রিল ২০২১ ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ

গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের(মহিপুর বাজার)গর্বিত বাবা জাহিদুল এবং ইমিলি দম্পতির একমাত্র ছেলে মেধাবী শিক্ষার্থী লিমন সরকার।

জানা যায়, পরিবারটির নুন আনতে পান্থা ফুরায় অপরের জমিতে দিনমজুর বাবা'র পরিবারের সন্তান হলেও লেখাপড়ায় অত্যন্ত মেধাবী একজন কৃতি শিক্ষার্থী।লিমন-

লক্ষীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিইসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫,

লক্ষীপুর রহিমা খাতুন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫(ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি)এবং একই বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫(সাধারন বৃত্তি)পেয়ে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

পলাশবাড়ী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি'তে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।

সর্বশেষ রাজধানী ঢাকায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ-এ এমবিবিএস(শিক্ষা বর্ষ ২০২০- ২১)পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।এছাড়া এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে লিমন ডাচ্-বাংলা ব্যাংক থেকে বৃত্তি লাভ করেছিলেন।

এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় ঢাকা শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ-এ ভর্তি পরীক্ষায় সমগ্র বাংলাদেশে মেধা তালিকায়(নং-৬৩৮)উত্তীর্ণ হওয়ায় উচ্ছ্বসিত খুশিতে আনন্দঘন পরিবেশে প্রেস ক্লাব পলাশবাড়ী'র কার্যালয়ে মিষ্টিমুখের মহেন্দ্রক্ষণ সন্ধিক্ষণে কিছুক্ষণ।এসময় প্রেস ক্লাব এর আথিতেয়তায় পলাশবাড়ী সরকারি কলেজের দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী আগামীর চিকিৎসক মো.লিমন সরকারসহ তার গর্বিত মা-বাবা'কে স্বাগত জানিয়ে মিষ্টিমুখ করানো হয়।

শুক্রবার সন্ধায় গর্বিত বাবা এবং মা দম্পতিকে সাথে নিয়ে ক্লাবে পদার্পণ কালে প্রেস ক্লাব পলাশবাড়ী'র সভাপতি মো.মনজুর কাদির মুকুলের নেতৃত্বে এসময় উপস্থিত সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ লিমন পরিবারকে ঊষ্ণ অভ্যর্থনাসহ স্বাগত জানান।মিষ্টিমুখ শেষে আজকের শিক্ষার্থী ভবিষ্যত চিকিৎসক লিমন-এর হতদরিদ্র দিনমজুর বাবা মো.জাহিদুল ইসলাম এবং মা মোছা. ইমিলি বেগম দম্পতি তাদের প্রতিক্রিয়ায় পরিবারের লেগে থাকা টানাপোড়েন,অভাব-অনটন,দুঃখ-কষ্ট,সাধ এবং সাধ্যের দৌরাত্মসহ না বলা নানা দৈন্যদশার কথা অকপটে বলেন।পরিবারের একমাত্র বড় ছেলে সন্তান মেধাবী লিমন পলাশবাড়ী সরকারি কলেজে পড়ুয়া একমাত্র মেধাবী ছোট বোন মোছা.শিমু আক্তারের পড়ালেখা নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন।

দিনের পর মাস-মাসের পর বছর জুড়ে আষ্টেপৃষ্টে জড়িত অসহনীয় চরম দৈন্যদশার কথা বলতে গিয়ে খুশিতে আবেগাপ্লুত বাবা-মা দু'জনেরই নয়ন অশ্রুসজল হয়ে উঠে।সন্তানের ভবিষ্যত সফলতার জন্য কষ্টে জর্জরিত বাবা-মায়ের জলভরা টল-টল নয়ন দেখে এসময় লিমন'ও তার চোঁখে অশ্রু ধরে রাখতে পারছিলেন না।বাবা-মায়ের সংশয় তবে কি শেষ পর্যন্ত তাদের আদুরে সন্তানের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারবেন কি-না ?এমন দুশ্চিন্তায় রীতিমত তারা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। 

এদিকে লিমন সরকারের পরিবার ও প্রতিবেশীসহ সজ্জনরা জানায় কোন না কোন সহৃদয়বান ব্যক্তিবর্গের সরাসরি আর্থিক সহায়তা ছাড়া লিমনের কলেজে ভর্তির বিষয়টি নিশ্চিত হলেও শিক্ষা গ্রহনে ব্যয় বহন করা দুরূহ হয়ে পড়বে। তাই স্বহৃদয়বানদের সহযোগীতা কামনা করেছেন।

(লিমন-বিকাশ:০১৭৭৬ ৮০ ২৪ ৯৭,ডাচ্-বাংলা:০১১৭৭৬ ৮০ ২৪ ৯৭-৮,বাবা:০১৭৪৬ ৪৯ ৯৯ ৬৮)

সম্পর্কিত খবর