সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২০
দেশজুড়ে ডেস্ক
৩০ জুন ২০২০
৯:০০ পূর্বাহ্ণ
জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে বৈদ্যুতিক শকে কলেজ ছাত্রের অকাল মৃত্যু।
জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে বৈদ্যুতিক শকে কলেজ ছাত্রের অকাল মৃত্যু।

৩০ জুন ২০২০ ৯:০০ পূর্বাহ্ণ

আখতারুজ্জামান তালুকদার, জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ

জানা যায়, গত রবিবার ২৮জুন সন্ধ্যায় জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে বৈদ্যুতিক শকে ১ কলেজ ছাত্রের অকাল মৃত্যু হয়েছে।

এলাকাবাসী ও ভূক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রসুলপুর গ্রামের অগভীর নলকুপ মালিক জাহাঙ্গীর আলম রুবেল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বৈদ্যুতিক শ্যালো মেশিনে আবাদি জমিতে সেচকার্য পরিচালনাসহ পল্লী বিদ্যুতের অনুমোদন ছাড়াই পার্শ্ব সংযোগ হিসেবে অরক্ষিতভাবে ক্ষেতের জমির মধ্য দিয়ে আশপাশের তিনটি পুকুরে আলোর ব্যবস্থা ও শুকনো মৌসুমে পুকুরে পানি সরবরাহ করে আসছিলেন।

গতকাল রবিবার ২৮জুন সন্ধায় উপজেলার রসুলপুর গ্রামের লাকাটি ও বড়দিঘী নামক স্থানে ওই অগভীর নলকুপের অরক্ষিত তারে জড়িয়ে ইমন বসাক নামের এক কলেজ ছাত্রের  মৃত্যু হয়েছে।

মারা যাওয়া ইমন বসাক (১৮) জেলার ক্ষেতলাল উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের  রসূলপুর হিন্দু পাড়া গ্রামের মনমতো বসাক এর সন্তান এবং স্থানীয় ক্ষেতলাল সরকারি সাঈদ আলতাফুন্নেছা কলেজ এর একাদশ শ্রেণীর ছাত্র এবং এবার এইচ এস সি পরীক্ষা শেষ হলে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়তো।

জানা যায়, ঘটনার দিন ইমন বসাক পিতা মনমোত বসাককে সাহায্য করতে জমির ক্ষেতে যায়। জমি চাষ শেষ হলে পিতাকে একটু অবসর দিতে নিজেই পাওয়ার টিলারে চেপে বসে অন্য জমিতে পাওয়ার টিলার সরিয়ে নেওয়ার সময় বিপদ জনক অরক্ষিত ওই তারে জড়িয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ইমন বসাক। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং অগভীর নলকূপ মালিক এর প্রতি বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে জনতা। 

পরে পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এর আগে ঘটনাস্থলে মৃত্যু হলেও বেঁচে থাকার অনুমানে নিহত ইমন বসাক কে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত ডাক্তার পূর্বেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।

নিহত কলেজ ছাত্র ইমন বসাক এর  বাবা মনমোত বসাক কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমরা বহুবার অগভীর নলকুপ মালিক জাহাঙ্গীর আলম রুবেল হোসেনকে তার অরক্ষিত তার সড়িয়ে নিতে বলেছিলাম। কিন্তু তার গোয়ারতমির কারণে আজ আমার কলেজ পড়ুয়া ছেলের লাশ দেখতে হলো।

মামুদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান শামীম বলেন, কলেজ পড়ুয়া ছাত্রের এমন অনাকাংক্ষিত মৃত্যু কেউ প্রত্যাশা করেনি।

জয়পুরহাট-২ এলাকার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পরিচালক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী রকেট বলেন, পার্শ্ব সংযোগ বিষয়ে সেচ মালিকদের একাধিকবার এলাকায় মাইকিং করে সতর্ক করা হয়েছে। যদি  কোন সেচ মালিক এরপর পুনরায় এরকম ঘটনা ঘটায় তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আবু রায়হান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শ্যালো মেশিনের বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে ওই কলেজ ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। শ্যালো মেশিন মালিক জাহাঙ্গীর আলম রুবেলকে আসামী করে নিহতের পিতা মনমত বসাক বাদী হয়ে থানা একটি মামলা দায়ের করেছেন এবং  লাশ ময়না তদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। 

 

সম্পর্কিত খবর